ঠিক যেনো বিদ্যাসাগর! ডাস্টবিনে বসে বই পড়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল ছোট্ট শিশু হুসাইন

পড়াশোনার সমতুল্য আর কিছু নয়। জীবনে উন্নতি করতে গেলে শিক্ষা থাকতেই হবে। শিক্ষা ব্যাতিরেকে জীবনে এক পা‌ও এগানো অসম্ভব।

এবং যে এই বিষয়টা বুঝে যায়, সে যেনতেন প্রকারে পড়াশোনা করতে চায়। এই যেমন সিরিয়ান একটি শিশু। সরকারি হিসেব অনুযায়ী যুদ্ধবিদ্ধস্ত ১৫ লাখ,

সিরিয়ান মানুষ বর্তমানে শরনার্থী হিসেবে জীবনযাপন করছে লেবাননে এসে। আর এবার এক লেবাননী প্রফেসরের চোখেই ধরা,

পরল অমোঘ একটি দৃশ্য। ময়লা ডাস্টবিনের মধ্যে বসে ব‌ই পড়ছে বছর দশেকের একটি শিশু। নাম হুসাইন। এই ছবিটি এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে স্যোশাল মিডিয়ার পাতায়। যা রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে নেটিজেনদের। মুহুর্তটি ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন লেবাননের তরুণ প্রকৌশলী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রডারিক ম্যাগামাস। বৈরুতে তার কর্মক্ষেত্রে বসে কাজ করছিলেন। সেসময় জানালার বাইরে চোখ পড়তেই তিনি দেখেন পরনে ছেঁড়া প্যান্ট ও ফুলশার্ট পড়া একটি কিশোর ডাস্টবিনের ভেতর দাঁড়িয়ে রয়েছে হেলান দিয়ে।

হাতে তার ব‌ই। খুব মনোযোগ সহকারে সে পড়ছে। এমন দৃশ্য বন্দী করার লোভটা সংবরন করা দায়। তাই তৎক্ষণাৎ মুঠোফোনে ক্যাপচার করেন তিনি। স্যোশাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করতেই মিডিয়া হাউসগুলি হামলে পড়ে। রডারিক এক সংবাদমাধ্যমকে জানায়, “আমি অন্তত সাত মিনিট দাঁড়িয়ে দেখেছি সে খুব যত্ন ও আবেগ দিয়ে বইয়ের পাতাগুলো উল্টাচ্ছে। তবে সে যে বইটি পড়ছিল তা বাচ্চাদের বই ছিল না। তার সাথে কথা বলে আমি যা বুঝলাম সে খুব মেধাবী।” রডারিকের কথাতেই জানা যায়,

সকালে নিয়মিত স্কুল যায় হুসাইন। তবে বাড়ি ফিরে নামতে হয় জীবনসংগ্রামে। অভাবের সংসারে কিছু সাহায্য করতে ‘টোকাই’য়ের কাজে। ছবিতে কার্টেসি পড়ে, তাকে ঘিরে স্টোরি হয়। কিন্তু হুসাইনের কতটা লাভ হয় তাতে? রডারিক জানান, “আমি একটি সমিতিকে সাথে নিয়ে ইতোমধ্যেই হুসাইন এবং তার পরিবারের সহায়তা করতে একটি আর্থিক ফান্ড সংগ্রহ শুরু করেছি। এজন্য যে তার যেন আর ‘টোকাই’য়ের কাজ করতে না হয় এবং নিজের পড়াশোনার জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পায়।”