ঠান্ডা জল দিলেই হবে সেদ্ধ ভাত! এমন ধান চাষ করে সকলকে চমকে দিলেন কৃষক

নেট মাধ্যমে প্রায়শই এমন অনেক আশ্চর্য ভিডিও ভাইরাল হয়ে থাকে যা দেখে আমরা রীতিমত অবাক হতে বাধ্য হই। সোশ্যাল মিডিয়া মানে আজকাল,

নানান ভাইরাল ভিডিও সম্ভার। ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম গুলি দ্রুত মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে উঠেছে।

পূর্ববর্তী সময়ে স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা না থাকায় সহজে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা যেত না। কিন্তু আজকাল যে ভাবে মুঠোফোনে বন্দী,

সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের একটি আলাদা জগৎ হয়ে উঠেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু মাঝে মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ার এমন কিছু ঘটনা দেখা যায় যা দেখে আমরা পুরো অবাক হয়ে যাই। টগবগে গরম জলে ফুটছে চাল। হয়ে ওঠা ভাতের সুবাসে ম ম করছে রান্নাঘর। বাঙালির ঘরদুয়ারে এ খুব চেনা ছবি। প্রিয়ও বটে। ভেতো বাঙালির ভাত ছাড়া চলে না। সুতরাং ভাতের গন্ধ যে প্রিয় হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ম্যাজিক ধানের কথা কখনও শুনেছেন? না শুনলে, আজই জেনে নিন। ম্যাজিক ধান হল এমনই এই ধান– যা থেকে তৈরি হওয়া চাল ঠান্ডা জলেই রান্না হতে পারে। অর্থাৎ ভাত তৈরির জন্য আর গরম জলের প্রয়োজন নেই। এবার ঠান্ডা জলেই ভাত তৈরি কর‍তে পারবেন আপনি। বিহারের ৬৪ বছর বয়সী বিজয় গিরির তৈরি ধান যদি আপনি ব্যবহার করেন– তবে এই কাজ একেবারেই অসাধ্য নয়। কে এই বিজয় গিরি? কৃষক পরিবারের সন্তান।

পিতৃদত্ত বেশ কিছুটা জমি আছে। নিজে ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তারপর তিনি কৃষিকাজ শুরু করেন। নিজের পিতৃদত্ত জমিতেই চাষ শুরু করেন তিনি৷ এই জমিতে তিনি ধান এবং গম দুই চাষই শুরু করেছিলেন। চাষ শুরু করে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বেশ খ্যাতি এবং সাফল্য লাভ করেছিলেন৷ চাষের দুনিয়া আস্তে আস্তে বদলাচ্ছিল। রাসায়নিক ব্যবহার করে চাষের জায়গায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছিল জৈব চাষ বা Organic Farming। জৈব চাষ জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেইদিকে ঝুঁকে পড়েন– বিজয় গিরি। জৈব চাষ সম্পর্কিত একাধিক মেলা এবং অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে শুরু করেন তিনি।

এদের মধ্যে একাধিক মেলা এবং অনুষ্ঠান হত পঞ্জাবের মোহালিতে। সেখানে গিয়ে জৈব চাষ নিয়ে হাতেকলমে অনেককিছু শেখেন– বিজয় গিরি। এরপরেই ধীরে ধীরে জৈব চাষের প্রয়োগ। তারপরেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট কালো ধান এবং ম্যাজিক ধানের কথা শোনেন। ধীরে ধীরে সেই ধান চাষ করার পথে হাঁটেন তিনি। ম্যাজিক ধানের পোষাকি নাম হল Boka Saul। এই ধান পাওয়া যায় আসাম প্রদেশে। এই ধান এমন একটি ধান– যা ঠান্ডা জলেও রান্না করা যায়। অর্থাৎ গ্যাস না জ্বালিয়েও রান্না করা যাবে এই ভাত। এই ধান শুধু যে কম সময়ে রান্না করা যায়– তাই নয়, পাশাপাশি মধ্যবিত্তের গ্যাস খরচাও বাঁচিয়ে দিতে পারে এই ধান।