ঘরে অসুস্থ স্বামীকে রেখে সংসারের দায়িত্ব তুলে নিয়ে এক বছরের সন্তানকে কোলে বেঁধেই টোটো চালাচ্ছে মা, কুর্নিশ নেটদুনিয়ায়

ইন্টারনেটের দৌলতে কত মহিলার জীবন সংগ্রামের কথা জানা যায়। সংসারের বোঝা টানতে মহিলার বাসের স্টিয়ারিং ধরার খবরও খুব একটা পুরনো নয়।

উত্তরপ্রদেশের নয়ডার এক মহিলা সংসারের খরচ চালাতে শুধু টোটো চালাচ্ছেন নয়, টোটো চালানোর সময় দেখভালও করছেন নিজের সন্তানকেও।

গল্প বলেও মনে হলেও সত্যি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই, মহিলাকে কুর্নিস জানিয়েছেন নেটিজেনরা।

স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর জীবিকা অর্জনের জন্য টোটো চালানোকে পেশা করেন নয়ডার বাসিন্দা চঞ্চল শর্মা নামে এক মহিলা। এক মাত্র সন্তান খুব ছোট। সন্তানের দেখভাল করার মতো কেউ নেই বাড়িতে। অগত্যা, ছেলেকে নিয়ে প্রতিদিন বেড়িয়ে পড়েন জীবিকা অর্জনে। আর এটাই এখন তাঁর প্রতিদিনের রুটিন।সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে ছেলেকে নিয়ে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হন চঞ্চল। মাঝে সন্তানকে স্থান এবং খাওয়ানোর জন্য দুপুরে বাড়ি আসেন তিনি। সারাদিন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নয়ডার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োলজিক্যালস এবং লেবার চকের মধ্যে ৬.৫ কিলোমিটার রাস্তা টোটো চালিয়ে যাচ্ছেন ২৭ বছর বয়সী ওই মহিলা। এই টোটো চালানোর মাঝে ছেলের খিদে পেলে,

খাওয়াচ্ছেনও তিনি। টাইমস অফ ইন্ডিয়া আরও জানাচ্ছে যে, স্বামীর সংসার থেকে চলে আসার পর প্রথম প্রথম চাকরি জন্য চেষ্টা করেছিলেন চঞ্চল। কিন্তু চাকরি না মেলায়, শেষে একটি টোটো কিনতে বাধ্য হয় সে। ছেলেকে ক্রেশ বা ডে-কেয়ারে রাখার মতো সামাথ্যও নেই তাঁর। তাই, ছেলেকে সাথে করেই টোটো চালাতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছেন ওই মহিলা। নয়ডার মতো রাস্তায় যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা লেগেই আছে। যখন টোটো চালায়, তখন ছেলেকে নিজের সামনে বসিয়ে রাখেন। তার এই জীবন সংগ্রামের প্রশংসা কুড়িয়েছে টোটোয় চড়া যাত্রীদের একাংশ। স্বামীর সংসার থেকে চলে আসার পর মা ও ভাইয়ের সঙ্গে এক কামরার বাড়িতে থাকেন চঞ্চল শর্মা। তাঁর মা বাজারে সবজি বিক্রি করেন। ভাই থাকলেও, খুব কম সময় বাড়িতে থাকে সে।

বিবাহিত তিন বোন থাকে দূরে। ফলে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বের হওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই বলে জানিয়েছেন। নয়ডায় টোটো চালিয়ে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করে সে। রিক্সা কেনার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। এর জন্য প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে দিতে হয়। তাঁর এখন একমাত্র লক্ষ্য, টোটো চালিয়ে ছেলেকে মানুষ করে তোলা। আর সেই লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চঞ্চল শর্মা। এমন একটি সাহসী মায়ের গল্পকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষজন। অনুরাগীরা পুরো মুগ্ধ হয়ে গেছে এই মায়ের এমন সাহসিকতা দেখে।