মাত্র ৩ ফুট উচ্চতা! কঠিন প্রতিকূলতাকে হারিয়ে NET পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশ নম্বর পেলেন নদীয়ার পিয়াসা

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার চলার পথে সব সময়ই বাধার সৃষ্টি করেছে। যেখানে তার সামনেই অন্যান্য মানুষরা তাদের ইচ্ছামত হেঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছে,

সেখানে তিনি বসে রয়েছেন ঘরের এক কোণে। কিন্তু স্বপ্ন যার চোখে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো এবং লক্ষ্য রীতিমতো স্থির থাকে এইসব প্রতিবন্ধকতা,

আটকাতে পারে না। তে হাজারো প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নিজের লক্ষ্য ও অটুট রেখেছে, নদীয়ার এই যুবতী।আপনি জানলে অবাক হবেন যে,

‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট’ বা ‘নেট’ পরীক্ষায় ৯৯.৩১ শতাংশ নম্বর পেয়ে নজীরবিহীন উদাহরণ তৈরি করেছে নদিয়ার এক প্রতিবন্ধী যুবতী পিয়াসা। তিন ফুট উচ্চতার পিয়াসা নিজের ইচ্ছায় হাঁটতেও পারেননা আর নিজের হাতের কাজও ঠিকঠাক করতে পারেননা। এমনকি ঠিক করে বুঝতেও পারেন না। কোন রকমে নিজের ছোট ছোট হাত দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে লেখাপড়া চালিয়েছে। আর নিজের অদ্ভুত ইচ্ছা শক্তির জোরেই আজ সাফল্য অর্জন করেছেন, শান্তিপুরের একটি কে.জি স্কুলে বছর দেড়েক পড়াশোনা করার পর তিনি ভর্তি হন আমড়াতলা গার্লস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে ক্লাস ফাইভ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর ভর্তি হন শান্তিপুরের রাধারানী নারীশিক্ষা মন্দিরে।

এখানকার পড়াশোনা শেষ হলে শান্তিপুর কলেজে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি ও কৃষ্ণনগর গভর্মেন্ট কলেজ থেকে বাংলায় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। জীবনে অনেক কষ্টের মাধ্যমে অবশেষে তিনি সাফল্য পেলেন। পিয়াসার কথায়, ‘প্রথমবারের মতো নেট পরীক্ষায় বসে ৯৯.৩১ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। এর ফলে আমি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কাজ করতে পারবো ভেবেই খুব খুশি হচ্ছি।’ এছাড়াও, পিয়াসা জানান তিনি যেহেতু শারিরীক ভাবে সেভাবে সক্ষম নন তাই তার সমস্ত কাজের দায়িত্ব তার বাবা-মা ই পালন করেন। তাই বাবা মার মুখ উজ্জ্বল করে এই সাফল্য পেয়ে দেখানোর পরে খুশি তার পরিবার।