NEET পরিক্ষায় সকলকে তাক লাগানো ফল বাংলার ছেলে সাইনুলের, রেজাল্ট শুনে শুভেচ্ছা জানালেন নওদা থানার ওসি

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে নিট য়ের ফলাফল। আর তা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গেল ন‌ওদা থানা এলাকার বাসিন্দা সাইনুল হকের র‌্যাঙ্ক এসেছে ১১৬৫২।

যার জেরে পরিবারের লোকেদের মুখে হাসি আর ধরে না। গ্রামের লোকেদের মুখে মুখে ঘুরছে একটাই কথা। “আমাদের গ্রামের ছেলেটা ডাক্তার হবে গো,

বড় হইয়ে আমাদের সেবা কইরবে।” সাইনুলের সাফল্যে খুশী হয়ে সম্বর্ধনা জানিয়ে গিয়েছেন নওদা থানার ওসি উৎপল কুমার দাস‌ও।

বহরমপুরের নওদা থানার ত্রিমোহনী পূর্ব পাড়ার ছেলে সাইনুল বেশীরভাগ সময়টাই পড়াশোনা করেছেন অনলাইনে। ইউটিউবে নানা শিক্ষামূলক ভিডিও দেখে প্রিপারেশন নিয়েছে পরীক্ষার। সাইনুল জানায়, “ইউটিউবে অনেক শিক্ষকের বক্তব্য শুনতাম। সকলেই বলেন, নিজের সাফল্যের ধাপ একটা একটা করে পেরোতে হবে। একসঙ্গে পুরোটা নিয়ে ভাবলে চলবে না। এতদিন স্কুলের মাস্টারমশাইদের কাছ থেকে অনেকটা আর্থিক সাহায্য পেয়েছি। আগামী দিনেও ঠিক পড়াশোনাটা হয়ে যাবে আশা করি।” সাইনুলের মা মিনুয়ারা বিবির কথায়, “খুবই ভালো লাগছে। ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য পরীক্ষা দিয়েছিল। পাশ করেছে। এরপর ডাক্তারি পাশ করুক। এই অঞ্চলে তো ডাক্তারি পড়ানোর ভালো মাস্টার নেই। অনলাইনেই ও পড়াশোনা করতো।

স্কুলের শিক্ষকরা ওকে অনেক সাহায্য করতো।” প্রসঙ্গত, নওদা থানা এলাকার ত্রিমোহনীর হাই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছে সে কেমনভাবে শিডিউল সেট করেছিল পড়ার? সাইনুল জানায়, “ঘরে যখন সময় পেতাম তখনই নিজের প্রস্তুতিটা সেরে রাখতাম। ওরকম নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম ছিল না। ছোটবেলা থেকে ডাক্তার হওয়ার একটা টার্গেট ছিল। সেই লক্ষ্যে এখন এগিয়ে যেতে চাই।” সাইনুলের কথায়, “এটা সত্যি, গ্রামীণ এলাকায় ভালো ডাক্তার পাওয়া যায় না। এলাকার সাধারণ চিকিৎসকের কাছে রোগী দেখানো হলে অনেকেরই সমস্যার সমাধান হয় না। এরপর যখন তাঁরা বড়ো চিকিৎসকের কাছে দেখাতে যায়, তখন তাঁদের হাতে আর কিছু থাকে না। চিকিৎসকদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা চলে এসেছে। আমি সেই ধারণাটাই ভাঙতে চাই।