মৃ”ত্যুর আগে শেষবার “দিদি নম্বর 1” এর মঞ্চে জীবনের নানান কাহিনী বলে ঐন্দ্রিলা, অভিনেত্রীর কথা শুনে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রচনা ব্যানার্জি, ভাইরাল ভিডিও

পয়লা নভেম্বর থেকে স্যোশাল মিডিয়া জুড়ে শুধুই ঐন্দ্রিলা আর সব্যসাচী। ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি আর সব্যসাচীর ছায়াসঙ্গীর মতো,

তাঁর পাশে থাকার ঘটনা, সবমিলিয়ে প্রার্থনা আর আবেগের জোয়ারে ভাসছিল সবাই। কিন্তু শেষরক্ষা আর হলনা। গতকাল,

রবিবার বেলা ১২:৫৯ মিনিটে মারা যান ঐন্দ্রিলা। আর তারপর থেকেই স্যোশাল মিডিয়া ভেসে গিয়েছে শুধুই তাঁর খবরে। পুরোনো ইন্টারভিউ,

সিরিয়ালের ক্লিপিংস ফিরে ফিরে আসছে টাইমলাইনে। উঠে এল দিদি নং ওয়ানের একটি ক্লিপিংস। ভীষণ গুছিয়ে কথা বলতে পারত ঐন্দ্রিলা। তাঁর মুখশ্রী যতটা মিষ্টি ততটাই মিষ্টি ছিল তাঁর কন্ঠস্বর। দিদি নং ওয়ানের মঞ্চে এসে খুব গুছিয়ে নিজের জীবনের অতি বড় কঠিন অধ্যায়‌ও বর্ণনা করেছিলেন রচনার কাছে। ঐন্দ্রিলা জানান, মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথমবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় সে। সেসময় মোটে তার ক্লাস ইলেভেন। বোনম্যারোতে ছড়িয়ে পড়ে মারণরোগ। টানা একটা বছর কেমোথেরাপির সাহায্য নিতে হয়েছিল তাঁকে। ফিরে এসেছিলেন ক্যান্সারকে হারিয়ে। তারপর সব ঠিকঠাক। মেগা ধারাবাহিকে আত্মপ্রকাশ, একটা সুস্থ জীবন, একজন মনের মানুষ, সকলের ভালোবাসা, সব মিলিয়ে ভালোই ছিলেন ঐন্দ্রিলা। বাবা-মা ডাক্তারির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ছ’বছর চেক‌আপের মধ্যেই ছিলেন।

কিন্তু গতবছর ১৪ ফেব্রুয়ারির দিন ফের অভিশাপ নিয়ে আসে জীবনে। কাঁধের কাছে ভীষণ ব্যাথা নিয়ে উড়ে যান দিল্লি। এইমসে চিকিৎসা শুরু হ‌ওয়ার পর্যায়ে জানানো হয় ক্যান্সার থাবা বসিয়েছে ফুসফুসে। রচনার চোখের কোন বেয়ে টপটপ জল পড়ছে। ফুঁপিয়ে কাঁদার অবস্থা ঐন্দ্রিলার‌ও। তবু সে বলে চলে, “আমায় পাঁচ মিনিট দেওয়া হয়েছিল নিজের জীবন সম্পর্কে ভাবার। তাঁরা এটাও জানিয়ে দেয় যে অপারেশন হলে হয়ত আমি সারভাইভ না ও করতে পারি। কিন্তু আমি রিস্ক নিতে প্রস্তুত ছিলাম। দিদি নং ওয়ানের একটি এপিসোডে আমি দেখেছিলাম দুই পা হারা এক মহিলার জীবনসংগ্রাম। তখন‌ই বুঝি,

আমার থেকেও বেশী কষ্টে রয়েছে অনেক মানুষ‌ই।” ঐন্দ্রিলা জানায়, অপারেশন শেষে যখন সে চোখ খোলে, প্রচুর আলো দেখে সে ভেবেছিল আদতে বেঁচে রয়েছে কিনা। দিদি নং ওয়ানের মঞ্চে উঠে আসে প্রেমিক সব্যসাচীর কথাও। ঐন্দ্রিলা জানায়, সব্যসাচী তাঁর জীবনের শান্তিদূত। সব্যসাচীর বিষয়ে কথা বলতে গিয়েই প্রথমবারের মতো ভাষা হারিয়েছিল ঐন্দ্রিলা। প্রসঙ্গত, কেওড়াতলা মহাশ্মশানে গতকাল শেষকৃত্য হয় ঐন্দ্রিলার। শেষ যাত্রাতেও তাকে আগলে রেখেছিল সব্যসাচী। স্যোশাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “তোমায় নিজে নিয়ে গিয়েছিলাম হাসপাতালে, ফিরিয়ে তোমাকে আনব‌ই।” ঐন্দ্রিলার মিরাকেলের উপর ভরসা ছিল সব্যসাচীর। কিন্তু এবার আর কোনো মিরাকেল ঘটল না।