মেধার কাছে হেরে গেল দারিদ্রতা! কুঁড়েঘরে থেকে NEET-এ দুর্দান্ত ফল করে দিল্লির AIIMS-এ পাড়ি বাংলার মেয়ে সরস্বতীর

বাবা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্যাস ওভেন সারান। মা গৃহবধূ কিন্তু নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারে স্বামীকে ভরসার কাঁধ দিতে ঠোঙা তৈরি করে দু-দশ টাকা,

উপার্জনের চেষ্টা করেন। কিন্তু মেয়ের মেধার কাছে হার মানল দারিদ্র৷ সর্বভারতীয় মেডিক্যাল পরীক্ষায় একশোয় একশো শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম র‍্যাঙ্ক করে,

আপাতত দিল্লি AIIMS-এ পড়াশোনার সুযোগ পেল মেয়ে। আর তার এই সাফল্যে গর্বিত বাবামায়ের আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়ছে গাল বেয়ে।

দুর্গাপুরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধু নগর কলোনির বাসিন্দা সরস্বতী রজক। ছোটবেলা থেকে অভাব দেখে এসেছে এই মেয়ে। অ্যাজবেস্টরের ছাউনি দেওয়া বাড়িতে বৃষ্টি হলে জয়েন্ট বেয়ে জল টপটপ পড়ে। এখনও রান্না হয় কাঠের উনুনে। দারিদ্র্য তো নিত্যসঙ্গী কিন্তু মেয়েটা কখনও জেদ ছাড়েনি পড়াশোনার। বাবা-মা‌ও নিজেদের সবটা উজার করে দিয়েছে মেয়ের পড়াশোনা আর স্বপ্নশিখরে ওঠার পথ গড়তে। পরিবারের আশীষ মাথায় নিয়ে ধীরে ধীরে সরস্বতী এগিয়ে গিয়েছে নিজের লক্ষ্যে। স্থানীয় শিশু শিক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সায়েন্স নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে সরস্বতীর।

ইচ্ছে ছিল জয়েন্টে বসার কারণ তার ছেলেবেলা থেকেই ইচ্ছে চিকিৎসক হ‌ওয়ার। কিন্তু বিপদ কি আর বলেকয়ে আসে। বাবার কাজ চলে যায়। অর্থাগম পুরোপুরি বন্ধ। চিন্তায় চিন্তায় আর জয়েন্টের পড়া হল না সরস্বতীর। কিন্তু সে কি হাল ছাড়ল? কভি নেহি। উচ্চমাধ্যমিকের পর রানিগঞ্জের ত্রিবেণীদেবী ভালোটিয়া কলেজে থেকে পড়াশোনা করছিলেন সরস্বতী। কলেজে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু করেছিলেন NEET-এর প্রস্তুতিও। ২০২২ সালে নিট পরীক্ষা দেন সে এবং সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। সে এইমসে ভর্তি হতে পারবে। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নপূরণে আর‌ও একধাপ সসম্মানে উত্তীর্ণ হল সে। বাবা মা যারপরনাই খুশী, আত্মীয়রা ডাকখোঁজ নিচ্ছে, প্রতিবেশীরাও আজ গর্বিত। সরস্বতীকে দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবেন বলেও মন্তব্য তাঁদের। দুর্গাপুরের দেশবন্ধু নগরের এই তরুণীকে নিয়ে এখন হইচই পড়ে গিয়েছে এলাকায়।