কোচিং ক্লাস না গিয়েই NEET-এ দূর্দান্ত সাফল্য! রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করলেন ওড়িশার চা বিক্রেতার ছেলে সুরজ

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত নানান ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। সেই ঘটনা গুলির মধ্যে কিছু ঘটনা যেমন আমাদেরকে ভীত করে,

আমাদের মনে রাগের উদ্রেক ঘটায় তেমনি আবার কিছু ঘটনা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। উল্লেখ্য সম্প্রতি নিট পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে।

সেখানে অনেকেই খুবই ভালো ফল করেছে। এবারে এমন একজনের খবর পাওয়া গেল যে চা বিক্রি করে নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

তার নাম সুরাজ কুমার বেহেরা। যোগ্যতা যার, সাফল্য তারই। এ কথাই প্রমাণ করল সুরাজ। সে ওড়িশার কান্ধমাল জেলা ফুলবনি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা একজন চা বিক্রেতা। নাম শিবা শংকর বেহেরা‌। তিনি হাসপাতালের বাইরে চা বিক্রি করেন এবং তাঁর পুত্র অর্থ সুরজ তাকে তার কাজে সাহায্য করে। এই সুরজ এবারে নিট পরীক্ষা পাস করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। কোচিং দেবার মতো সামর্থ্য তাদের নেই, তাই ছেলে বিনা কোচিংয়ে অভূতপূর্ব রেজাল্ট করেছে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি এন্ড এন্ট্রান্স টেস্ট পরীক্ষায় বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার বাবা চেয়েছিলেন যে তার ছেলে ডাক্তার হোক। কিন্তু তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। তাদের আর্থিক অবস্থা অতটা ভালো না, তাই ছেলের এমন সাফল্যের পরেও বাবার মনে দুশ্চিন্তা শেষ নেই।

তাই জন্য সুরজ কে কোন কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাতে পারেননি তিনি। তাই বাড়িতেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে সুরজ এবং এরপরে নিট পরীক্ষা দিয়ে সে উত্তীর্ণ হয়। তার র‍্যাঙ্ক ৮০৫৬। তবে এত বড় সাফল্য কিভাবে পেলেন সুরাজ তা জানতে চাইলে সুরাজ জানান সমস্ত প্রস্তুতি তিনি নিয়েছেন ইউটিউবে এর সাহায্যে। বেহেরা মেডিকেল এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সে ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৬৩৫ নম্বর পায়। প্রথমবারেই যে এই পরীক্ষায় সে সফল হয়েছে তা নয়। এর আগেও সে পাঁচবার চেষ্টা করেছিল।কিন্তু তখন সফল হতে পারেনি। কিন্তু ষষ্ঠবার এর চেষ্টায় সে সফল হয়। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে হেরে না গিয়ে বারবার চেষ্টা করলে সাফল্য পাওয়া যায়।

এছাড়াও তার বাবার দোকানে যে ডাক্তার রা চা খেতে আসতেন তাদের সাথেও পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করত সে। তা থেকেই তাঁর এই মেডিকেল পড়ার আগ্রহ বাড়ে এবং সেই মতো তিনি প্রস্তুতিও শুরু করেন। তবে আরও একটি কথা যেটি না বললেই নয়, আমরা যেখানে খুব সহজেই হাল ছেড়ে দিই সেখানে সুরাজ বারংবার চেষ্টা করে গেছেন কারণ এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি ষষ্ঠ বারের প্রচেষ্টায়। এর আগে তিনি পাঁচবার দিয়েছিলেন কিন্তু তাতে অসফল হয়েছেন। তবে তিনি তাঁর ধৈর্য এবং জেদ নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। বলা চলে তিনি আজ দেশের চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এক আইডল। তাঁকে দেখে আমাদের অনেকের অনেক শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন।