অনেকদিন তো হল, এবার ফিরে আয়’, ছোট্ট বোন ঐন্দ্রিলার জন্য আবেগঘন বার্তা দিদি ঐশ্বর্যর, চোখে জল ভক্তদের

ঐন্দ্রিলা শর্মা, একটি ছোট্টো ফিনিক্সের নাম। দুবার মৃত্যু ছুঁয়ে ফিরে আসা মেয়েকে আর কি নাম সাজে! তা হল‌ই বা তৃতীয়বারের ব্যর্থতা।

সারা বাংলার প্রতিটা ঘরের মানুষ‌ই হয়ত একবারের জন্য হলেও প্রার্থনা করেছিল ঐন্দ্রিলার জন্য। ঐন্দ্রিলার মৃত্যুতে সকলের মন মলিন হল।

সবথেকে বেশী হল ঐন্দ্রিলার পরিবারের। মা-বাবা, দিদি ও সব্যসাচী। ঐন্দ্রিলার শেষযাত্রায় তাঁকে সাজিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর দিদি।

কম্প্যাক্ট, ফাউন্ডেশন, লিপস্টিক… তার‌ বুনু যে বড্ড সাজুগুজু করতে ভালোবাসত। ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর দিদির স্যোশাল মিডিয়ায় উঠে আসছে ঐন্দ্রিলার একাধিক অদেখা ছবি, ভিডিও। কখন‌ও ছোটো বেলার ছবি আবার কখন‌ও হাসপাতালে থাকার সময়কার।‌ বুনু মারা যাবার পর খোলা চিঠি লিখেছিলেন স্যোশাল মিডিয়ায়। পুরোনো একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশন দিয়েছিলেন, “অনেকদিন তো হলো এবার তাড়াতাড়ি চলে আয় বুনু। তুই ছাড়া আমি যে পঙ্গু। কে আমাকে সাজিয়ে দেবে বলতো ? কে আমার ছবি তুলে দেবে? কে না বলা মনের কথাগুলো আমার মুখ দেখে বুঝে যাবে?

কে আলাদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো আমার সমস্ত মনের ইচ্ছে পূরণ করবে?” ঐন্দ্রিলার দিদি ঐশ্বর্য পেশায় চিকিৎসক। তবে ছোট থেকেই ঐন্দ্রিলার স্বপ্ন ছিল অভিনেত্রী হওয়ার। বয়সে খুব বেশী ফারাক নেই তাদের। পিঠোপিঠি হ‌ওয়ায় মিল ছিল বেশ। বন্ধুর মতো একে অপরের সঙ্গে মিশতেন। ঐশ্বর্য আর‌ও লিখেছে, “কার সাথে আমি ঘুরতে যাব? কার সাথে পার্টি করব? কার সাথে আমি সারারাত জেগে সিনেমা দেখবো, গল্প করবো? কে আমাকে সঠিক পরামর্শ দেবে? আমাদের এখনও কত প্ল্যান বাকি আছে বলতো? কে আমাকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসবে? কে আমার জন্য পুরো পৃথিবীর সাথে লড়বে, আমাকে আগলে রাখবে?”

ঐশ্বর্যর লেখায় ফুটে উঠছে কান্না আর আর্তি। লিখেছেন, “আমার যে তুই ছাড়া আর কোনো প্রিয় বন্ধু নেই। তুই যে আমার জীবনীশক্তি। এই ২৪ বছর এ আমি যে নিজে থেকে কিছুই করতে শিখিনি বুনু। আমি জানি তুই সাবলম্বী কিন্তু তোর দিদিভাই যে তোকে ছাড়া খুব অসহায়। তাড়াতাড়ি আমার কাছে চলে আই বুনু। অপেক্ষায় রইলাম।” বোনকে বরাবর শক্তির উপমা দেন তিনি। ভিডিও পোস্ট করে লিখেছিলেন, “শক্তি,সাহস,যুদ্ধ,জয়ের আর এক নাম আমার‌ বুনু।” দুই বোনের খুব ছোটবেলার একটি ছবি পোস্ট করে দিদি লিখেছিলেন, “আমার ছোট্ট বুনু … এইভাবেই সারাজীবন দু’জন দু’জনের হাত ধরে বেঁচে ছিলাম আছি এবং থাকবো।