অঙ্কিতার বাড়ির নেমপ্লেটে এখনো রয়েছে সুশান্তের নাম, প্রকাশ্যে আনলেন সুশান্তের বন্ধু

সুশান্তের প্রাক্তন প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখান্ডের কাছে বিষন্নতায় ভরা খোলা চিঠি লিখলেন সুশান্ত-এর বন্ধু সন্দীপ সিং। সুশান্ত সিং রাজপুত এর অকাল প্রয়া’ণে শোকাহত দুজনেই। মেনে নিতে পারছেন না তাদের প্রিয় বন্ধু আর নেই। তাই সন্দীপ নিজের মন খারাপের কথা গুলো লিখলেন অঙ্কিতাকে।

তিনি লিখেছেন, “প্রিয় অঙ্কিতা, এই মুহূর্তে একটা চিন্তা আমায় কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। যদি আমরা ওকে আটকাতাম, ভিক্ষা চাইতাম। সুশান্তের সঙ্গে তোমার বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও তুমি শুধুই ওকে ভালোবেসে গিয়েছ, ওর সাফল্য চেয়েছো, ভালো চেয়েছো। ও সবসময়ই তোমর কাছে বিশেষকিছু ছিল। তোমার ভালোবাসায় কোনও খাদ ছিল না।”

সন্দীপ অঙ্কিতা কে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন নানা রঙের দিন গুলির কথা। দুর্ভাগ্যবশত তা আজ অতীতের খাতায়। তিনি আরো লিখেছেন, ” এখনও তোমার ফ্ল্যাটের নেমপ্লেটে ওর নাম তুমি রেখে দিয়েছো”। এর থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় অঙ্কিতা নিজেও প্রাক্তন প্রেমিক সুশান্ত কে বর্তমানেও ভালোবাসতেন। সন্দীপ লিখেছেন, “ওই দিন গুলিতে আমরা একসঙ্গে রান্না করেছি, খেয়েছি, লোনাওয়ালা কিংবা গোয়াতে লং ড্রাইভে গিয়েছি। একসঙ্গে হলি খেলেছি, কত হাসি ঠাট্টা করেছি। আমরা একে অপরের পাশে ছিলাম।”

তিনি লিখেছেন, “সুশান্তের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তুমি সবকিছু করেছো, তোমরা শুধুই একে অপরের জন্যই তৈরি হয়েছিলে। তোমদের দুজনের ভালোবাসাই সত্যি। কীকরে ওই দিনগুলো ফিরিয়ে আনবো। মালপোয়া খাওয়ার কথা মনে আছে? ও শিশুর মতো আমার মাকে বলেছিল, মটনকারি খেতে চায়।” এভাবে একের পর এক স্মৃতির পাতা উল্টে একসাথে কাটানো মুহূর্তগুলো শেয়ার করেছেন সন্দীপ।

সুশান্তের জীবন নাকি অঙ্কিতার বাঁচাতে পারতেন, এমনটাই মনে করেন সন্দীপ। তিনি লিখেছেন, “একমাত্র তুমিই সুশান্তকে বাঁচাতে পারতে। তোমাদের বিয়ে দেখার স্বপ্ন দেখতাম। ও যদি তোমায় নিজের কাছে রাখতো, তাহলে তুমিই ওকে বাঁচাতে। ” শুধু সন্দীপ নয় এবং দুজনেই স্বপ্ন দেখতেন একদিন না একদিন দুজন দুজনকে বিয়ে করবেন।সম্পর্কের শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্ন গুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গিয়েছিল।

সন্দীপের কথায়,”তুমি সুশান্তের জন্য শুধু প্রেমিকা নও, ওর স্ত্রী, মা, বন্ধু, সবকিছুই ছিলে। তোমার জন্য ভালোবাসা রইল অঙ্কিতা, আমি তোমার মত বন্ধুকে কখনওই হারাতে চাইব না।”

ভাগ্য সহায় না থাকায় মিলন হয়নি সুশান্ত এবং অঙ্কিতার। সুশান্ত অঙ্কিত কে ছেড়ে অন্যান্য সম্পর্কে জড়িয়ে যে কত বড় ভুল করেছিলেন তা তিনি শেষ জীবনে বুঝতে পেরেছিলেন। সেসব কথা স্বীকার করেছিলেন তার মনোবিদের কাছে। সেই যন্ত্রণা ভুলতে না পেরে কষ্টে ভুগছিলেন তিনি।